top of page
  • Writer's pictureamlan ganguly

গুড্ডা গুড্ডি কা খেল !!!

১৯৭৫ এর ১৫ই অগাস্ট সকালবেলা থেকে মানি বলতে লাগলো আজ আমরা অনুপমা-র


সঙ্গে দেখা করতে যাবো। পাপা-র কাছে গেলাম উনিও তাই বললেন। দিদি, নাড়ুকাকু সবাই আমাকে তাই বলতে লাগলো - সন্ধেবেলায় সেজেগুজে চললাম "অনুপমা দিদি" কে দেখতে, ততক্ষণে তাঁকে প্রায় একটা আত্মীয়তার তকমা দিয়ে ফেলেছি। তখনও চিনতাম না পরে জেনেছি মেট্রো সিনেমা হলে ঢুকে অতো লোক দেখে ভাবলাম অনুপমাদি-র বিয়ে বোধহয়। কিন্তু মানি কোনো শাড়ির বাক্স আনলেন না - তারপর দেখলাম অনুপমাদি-র কষ্ট - জন্মের সময় মা মারা যাওয়াতে বাবা-র থেকে তাঁর দূরে থাকা - কোথায় জানি তাঁকে ভীষণ নিজের কাছের লোক বলে মনে হল। ৮ বছর বয়েসে বেশ অনেকদিন ধরে তাঁর কথা নিজের লোকের মতো করে ভেবেছি। এখন বুঝি হৃষীকেশ মুখার্জি -র ছবির বৈশিষ্ট্যই ছিলো এইটি। আমাদের আসেপাশে -র লোকগুলোকেই উনি পর্দায় আমাদের সামনে উপস্থিত করতেন - আর তাই ওনার ফিল্মের চরিত্রগুলো হয়ে উঠতো এতো হিউম্যান এতো আপন । ১৯৭৫ এর ওই দিনই হলের মধ্যে ঘোষণা হয়েছিলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রাহমানকে হত্যার কথা।

সেই বছরই আমরা পূজোর সময় নাড়ুকাকু সমেত আমরা ঘুড়তে যাই সাউথ ইন্ডিয়াতে। পাপা-মানির একটা শখ ছিলো ওনারা যদি কোথাও লম্বা ট্যুরে যেতেন তাহলে সেখানকার সিনেমা হলে একবার ঢুঁ দেবেনই। দশমীরদিন বিকেলবেলা মাদ্রাজের একটি হলে [তখনও চেন্নাই হয়নি - আর তখনই ওখানে মাল্টিপ্লেক্স] আমরা সবাই মিলে মিলি দেখলাম। সেই প্রথম আমি আমার রাশভারী পাপাকে এতো কাঁদতে দেখলাম - কোথায় উনি আমার না দেখা দিদিভাইয়ের মৃত্যু-র সঙ্গে "মিলি"- কে মিলিয়ে ফেললেন। পরে যতবারই টিভি তে মিলি দেখানো হয়েছে আমি দেখেছি পাপা এই সিনেমাটি consciously avoid করেছেন । আসলে আমার গুড়িয়া দিদিভাইকে মানির বাড়ির লোকেরা সবাই মিলি বলেই ডাকতো ।

এখন যখন প্রয়াসম ভিস্যুয়াল বেসিকস থেকে একই থীমের ওপর ফিল্ম সিরিজ করছি তখন বারবার মনে পড়ে যায় বিয়ে - জন্ম - মৃত্যু নিয়ে ১৯৫৭ সালে ওনার তৈরি মুসাফির ছবিটি। আমি টিভিতে দেখেছি। দিলীপকুমার, কিশোরকুমার, সুচিত্রা সেন, নিরূপা রায় এর মতো অভিনেতারা কাজ করেছিলেন। যার একটি গান আমাদের বাড়িতে প্রায়ই চালানো হতো - কিশোরকুমারের কন্ঠে - মুন্না বড়া প্যায়রা - https://www.youtube.com/watch?v=EZjKp8e9br4

ছোটবেলায় আমি সিনেমা হলে যেতাম খুব কম। আর আরও কম সময়ে পাপা আমাদের সঙ্গে যেতেন। কাজের চাপে উনি খুব কম "ফ্যামিলী টাইম" পেতেন। এখন বড় হয়ে যখন ভাবি বুঝতে পারি আমাদের সঙ্গে আমাদের পাপার এই সিনেমা যাওয়া আসার ব্যাপারটা বেশির ভাগ সময়েই ঘটতো হৃষীকেশ মুখার্জি-র ফিল্ম হলে এলে। আর সেই কারণে আমার ওঁর ফিল্মের প্রতি একটা আলাদা টান আছে। রক্সিতে মনে আছে পাপার হো হো করে হাসি পুলিশরূপী উৎপল দত্তের Raj Babbar (Guest Appearance এ ছিলেন) এর কথায় ভুল বুঝে অর্ডার - বি আর চোপড়া কো বুলাও - শুনে।

তবে আমার সবথেকে ফেভারিট হৃষীকেশ মুখার্জি-র ফিল্ম হল গুড্ডি। এর একটা কারণ আমার দিদি-জয়া ভাদুড়ি -র দারুণ ফ্যান ছিলো - আর এটা সবাই জানে আমার পুরো পৃথিবীটাই ছোটবেলায় ঘুরতো দিদি কে ঘিরে। ছোটবেলায় দেখা এই সিনেমাগুলো আমাকে একটু একটু করে তৈরি করেছে। হাতে ধরে অন্যের ব্যাপারে আগে চিন্তা করতে শিখিয়েছে - তাই যখন প্রয়াসম খোলা হল - ঝামেলা ছিলো কিন্তু আশান্তি ছিলোনা - অনট্র্যাক ইন্সটিউট খোলার পর যে মানুষগুলো কে আরও কাছে থেকে জানার সুযোগ পেলাম - দেখলাম অনেকেই জীবনের সেন্সেটিভ বা সূক্ষ অনুভূতি গুলোকে এক্কেবারে চাপা দিয়ে রেখেছে - তৈরি হয়ে গেছে একটা আগ্রাসী মনোভাব - সেটাকে একটু একটু করে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমার সাধ্য দিয়ে আমার ধৈর্য দিয়ে - আমাদের গুড্ডা গুড্ডীদের নিয়ে।




26 views0 comments

Related Posts

See All

Mucize

Comments


bottom of page